Dhaka , Friday, 25 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

লন্ডনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনের দূতাবাস উদ্বোধন

যুক্তরাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দূতাবাস উদ্বোধন করা হয়েছে। লন্ডনে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত এই ঘটনাকে একটি “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

সোমবার পশ্চিম লন্ডনের হ্যামারস্মিথ এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট বলেন, ফিলিস্তিনি দূতাবাসের যাত্রা শুরু ব্রিটেন ও ফিলিস্তিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক।

 

তিনি বলেন, পূর্ণ কূটনৈতিক মর্যাদাসহ এই দূতাবাস প্রতিষ্ঠা ফিলিস্তিনি জনগণের সার্বভৌম রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকার এবং জাতিসমূহের সমতার স্বীকৃতির প্রতীক।

 

রাষ্ট্রদূত জোমলট আরও বলেন, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, শরণার্থী শিবির এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রজন্মের পর প্রজন্মের ফিলিস্তিনিদের কাছে এই দূতাবাস একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে—ফিলিস্তিনিদের পরিচয় অস্বীকার করা যাবে না, তাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে না এবং তাদের জীবনের মূল্য খাটো করে দেখা যাবে না।

 

তার ভাষায়, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অস্বীকৃত ছিল, তাদের জন্য এটি এক অনন্য ঐতিহাসিক অধ্যায়।

 

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং গাজায় ব্যাপক প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে এই স্বীকৃতি আসে।

 

যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৯৬৭ সালের সীমান্তকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি অধিকার ও দায়বদ্ধতাও স্বীকার করেছে লন্ডন।

 

দূতাবাসের নামফলক উন্মোচনের পর বক্তব্যে কূটনৈতিক কোরের মার্শাল অ্যালিস্টার হ্যারিসন বলেন, ফিলিস্তিনের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত গাজার ১৪ বছর বয়সী কিশোর ওবাইদাহ বলেন, তিনি ভয়াবহ সহিংসতা থেকে বেঁচে ফিরলেও তার শরীর ও মনে গভীর ক্ষত রয়ে গেছে। তার পরিবারের একাংশ যুক্তরাজ্যে থাকলেও তার বাবা এখনও গাজায় অবস্থান করছেন, যেখানে প্রতিদিনের জীবন আতঙ্কে ভরা।

 

ওবাইদাহ বলেন, একদিন তিনি রাষ্ট্রদূত হতে চান—হয়তো যুক্তরাজ্যেই—যাতে নিজের জনগণের পক্ষে কাজ করতে পারেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠ পৌঁছে দিতে পারেন।

 

তার মতে, যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; লন্ডনে দূতাবাস স্থাপন মানে এখানে ফিলিস্তিনের একটি স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া।

 

তিনি বলেন, এই দূতাবাস এমন একটি জায়গা, যেখানে ফিলিস্তিনিদের কথা শোনা হবে, তাদের অস্তিত্ব স্বীকৃতি পাবে এবং ন্যায়বিচার ও মর্যাদার প্রতি তাদের আশা বেঁচে থাকবে।

 

ওবাইদাহ আরও বলেন, স্বীকৃতি সব কষ্ট দূর করে না বা সব ক্ষত সারিয়ে তোলে না, তবে এটি একটি কণ্ঠ দেয়—বিশেষ করে শিশুদের জন্য—যাতে তারা বেঁচে থাকার, শেখার এবং ভয়হীন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারে; যেখানে গাজা, জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও পুরো ফিলিস্তিনের শিশুরা মর্যাদা ও আশার সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

লন্ডনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনের দূতাবাস উদ্বোধন

আপডেট টাইম : 11:39:36 am, Tuesday, 6 January 2026

যুক্তরাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দূতাবাস উদ্বোধন করা হয়েছে। লন্ডনে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত এই ঘটনাকে একটি “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

সোমবার পশ্চিম লন্ডনের হ্যামারস্মিথ এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট বলেন, ফিলিস্তিনি দূতাবাসের যাত্রা শুরু ব্রিটেন ও ফিলিস্তিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক।

 

তিনি বলেন, পূর্ণ কূটনৈতিক মর্যাদাসহ এই দূতাবাস প্রতিষ্ঠা ফিলিস্তিনি জনগণের সার্বভৌম রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকার এবং জাতিসমূহের সমতার স্বীকৃতির প্রতীক।

 

রাষ্ট্রদূত জোমলট আরও বলেন, গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, শরণার্থী শিবির এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রজন্মের পর প্রজন্মের ফিলিস্তিনিদের কাছে এই দূতাবাস একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে—ফিলিস্তিনিদের পরিচয় অস্বীকার করা যাবে না, তাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে না এবং তাদের জীবনের মূল্য খাটো করে দেখা যাবে না।

 

তার ভাষায়, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অস্বীকৃত ছিল, তাদের জন্য এটি এক অনন্য ঐতিহাসিক অধ্যায়।

 

এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত এবং গাজায় ব্যাপক প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে এই স্বীকৃতি আসে।

 

যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৯৬৭ সালের সীমান্তকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি অধিকার ও দায়বদ্ধতাও স্বীকার করেছে লন্ডন।

 

দূতাবাসের নামফলক উন্মোচনের পর বক্তব্যে কূটনৈতিক কোরের মার্শাল অ্যালিস্টার হ্যারিসন বলেন, ফিলিস্তিনের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত গাজার ১৪ বছর বয়সী কিশোর ওবাইদাহ বলেন, তিনি ভয়াবহ সহিংসতা থেকে বেঁচে ফিরলেও তার শরীর ও মনে গভীর ক্ষত রয়ে গেছে। তার পরিবারের একাংশ যুক্তরাজ্যে থাকলেও তার বাবা এখনও গাজায় অবস্থান করছেন, যেখানে প্রতিদিনের জীবন আতঙ্কে ভরা।

 

ওবাইদাহ বলেন, একদিন তিনি রাষ্ট্রদূত হতে চান—হয়তো যুক্তরাজ্যেই—যাতে নিজের জনগণের পক্ষে কাজ করতে পারেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠ পৌঁছে দিতে পারেন।

 

তার মতে, যুক্তরাজ্যের ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; লন্ডনে দূতাবাস স্থাপন মানে এখানে ফিলিস্তিনের একটি স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া।

 

তিনি বলেন, এই দূতাবাস এমন একটি জায়গা, যেখানে ফিলিস্তিনিদের কথা শোনা হবে, তাদের অস্তিত্ব স্বীকৃতি পাবে এবং ন্যায়বিচার ও মর্যাদার প্রতি তাদের আশা বেঁচে থাকবে।

 

ওবাইদাহ আরও বলেন, স্বীকৃতি সব কষ্ট দূর করে না বা সব ক্ষত সারিয়ে তোলে না, তবে এটি একটি কণ্ঠ দেয়—বিশেষ করে শিশুদের জন্য—যাতে তারা বেঁচে থাকার, শেখার এবং ভয়হীন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারে; যেখানে গাজা, জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও পুরো ফিলিস্তিনের শিশুরা মর্যাদা ও আশার সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারে।