Dhaka , Monday, 26 October 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতালিসহ ইউরোপে যাওয়ার সুযোগ

ইতালিসহ ইউরোপের শ্রমবাজারে বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মী পাঠাতে তিন হাজার বাংলাদেশিকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাস্তবায়নাধীন ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ পাইলট প্রকল্প।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ইতালিয়ান ভাষা, যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য কর্মীদের ইউরোপে চাকরির জন্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রশিক্ষণ নিলেই চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হবে না।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিটিই) সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আইএলও।

 

প্রাথমিকভাবে তিন হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এক হাজার কর্মীর প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।

 

আইএলওর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সোহানা সামরিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে দক্ষ কর্মী পাঠানোর টেকসই ও নিয়মিত অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রকল্পের লক্ষ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে তিন হাজার কর্মী নিয়ে এ মডেল পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সরকার যাতে নিজস্ব অর্থায়নে কার্যক্রমটি চালিয়ে নিতে পারে, সেই সক্ষমতাও তৈরি করা হচ্ছে।

 

আইএলওর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষ এ প্রকল্পে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর অন্তত এসএসসি বা এইচএসসি, সমমানের কারিগরি শিক্ষা, চার বছর মেয়াদি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা অথবা স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রাথমিক কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন। পেশাভেদে জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামোর প্রথম বা দ্বিতীয় স্তরের সনদ লাগতে পারে।

 

আগ্রহীদের সরকারি ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

 

প্রকল্পের আওতায় ১০টি সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, খুলনা ও সিলেটের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, ইউসেপ-বাংলাদেশ এবং কয়েকটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

 

নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা, পর্যটন ও আতিথেয়তা, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা, তৈরি পোশাক, জাহাজ নির্মাণ এবং হালকা প্রকৌশল খাতের বিভিন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি ইতালিয়ান ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার, শ্রমিকের অধিকার ও ইউরোপের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হচ্ছে।

 

আইএলওর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আগে থেকেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। আনুষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও অভিজ্ঞ কর্মীদের দক্ষতা যাচাই করে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

কারিগরি প্রশিক্ষণ, ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষা ও প্রাক্‌-বহির্গমন প্রস্তুতির জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। প্রশিক্ষণ চলাকালে দুপুরের খাবার অথবা এর পরিবর্তে মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে যাতায়াত ও ব্যক্তিগত খরচ প্রশিক্ষণার্থীদের বহন করতে হয়। বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ভিসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিমানের টিকিট, বিমা ও অন্যান্য খরচ কে বহন করবে, তা নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী আগে নিশ্চিত হতে হবে।

 

প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তথ্য ওইপি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হতে পারে। অনুমোদিত বিদেশি নিয়োগকর্তারা সেখান থেকে প্রার্থী বাছাই করে সাক্ষাৎকার ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে পারবেন। এরপর কাজের অনুমতি ও ভিসার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

 

ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ইতালির নতুন অভিবাসন আইনের ২৩ নম্বর ধারার আওতায় বাংলাদেশে কর্মীদের প্রাক্‌-যাত্রা প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু হয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ইতালির নিয়োগকর্তারা বহন করছেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতালিসহ ইউরোপে যাওয়ার সুযোগ

আপডেট টাইম : 07:37:59 pm, Sunday, 25 October 2026

ইতালিসহ ইউরোপের শ্রমবাজারে বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মী পাঠাতে তিন হাজার বাংলাদেশিকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) বাস্তবায়নাধীন ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ পাইলট প্রকল্প।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ইতালিয়ান ভাষা, যোগাযোগ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও শ্রমিকের অধিকার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য কর্মীদের ইউরোপে চাকরির জন্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রশিক্ষণ নিলেই চাকরি বা ভিসা নিশ্চিত হবে না।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিটিই) সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আইএলও।

 

প্রাথমিকভাবে তিন হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে এক হাজার কর্মীর প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।

 

আইএলওর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সোহানা সামরিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে দক্ষ কর্মী পাঠানোর টেকসই ও নিয়মিত অভিবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলাই প্রকল্পের লক্ষ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে তিন হাজার কর্মী নিয়ে এ মডেল পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সরকার যাতে নিজস্ব অর্থায়নে কার্যক্রমটি চালিয়ে নিতে পারে, সেই সক্ষমতাও তৈরি করা হচ্ছে।

 

আইএলওর তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষ এ প্রকল্পে প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর অন্তত এসএসসি বা এইচএসসি, সমমানের কারিগরি শিক্ষা, চার বছর মেয়াদি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপ্লোমা অথবা স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশায় প্রাথমিক কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন। পেশাভেদে জাতীয় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামোর প্রথম বা দ্বিতীয় স্তরের সনদ লাগতে পারে।

 

আগ্রহীদের সরকারি ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের (ওইপি) মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

 

প্রকল্পের আওতায় ১০টি সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, খুলনা ও সিলেটের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, ইউসেপ-বাংলাদেশ এবং কয়েকটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

 

নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিচর্যা, পর্যটন ও আতিথেয়তা, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা, তৈরি পোশাক, জাহাজ নির্মাণ এবং হালকা প্রকৌশল খাতের বিভিন্ন পেশায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি ইতালিয়ান ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার, শ্রমিকের অধিকার ও ইউরোপের কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হচ্ছে।

 

আইএলওর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আগে থেকেই দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে—এমন কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোই প্রকল্পের উদ্দেশ্য। আনুষ্ঠানিক সনদ না থাকলেও অভিজ্ঞ কর্মীদের দক্ষতা যাচাই করে সনদ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

কারিগরি প্রশিক্ষণ, ইতালিয়ান ভাষা শিক্ষা ও প্রাক্‌-বহির্গমন প্রস্তুতির জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। প্রশিক্ষণ চলাকালে দুপুরের খাবার অথবা এর পরিবর্তে মাসে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়। তবে যাতায়াত ও ব্যক্তিগত খরচ প্রশিক্ষণার্থীদের বহন করতে হয়। বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে ভিসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিমানের টিকিট, বিমা ও অন্যান্য খরচ কে বহন করবে, তা নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী আগে নিশ্চিত হতে হবে।

 

প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তথ্য ওইপি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হতে পারে। অনুমোদিত বিদেশি নিয়োগকর্তারা সেখান থেকে প্রার্থী বাছাই করে সাক্ষাৎকার ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে পারবেন। এরপর কাজের অনুমতি ও ভিসার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

 

ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, ইতালির নতুন অভিবাসন আইনের ২৩ নম্বর ধারার আওতায় বাংলাদেশে কর্মীদের প্রাক্‌-যাত্রা প্রশিক্ষণ প্রকল্প চালু হয়েছে। এসব প্রকল্পের ব্যয় ইতালির নিয়োগকর্তারা বহন করছেন।