Dhaka , Monday, 24 August 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

কানাডায় ২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগ, বাংলাদেশিদের বড় সুযোগ

কানাডা সরকার ২০২৬ সালে দুটি প্রধান অস্থায়ী কর্মসূচির আওতায় মোট ২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে ইন্টারন্যাশনাল মোবিলিটি প্রোগ্রাম (IMP) এবং ৬০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রাম (TFWP)-এর আওতায়। কানাডা সরকারের ২০২৬-২০২৮ সালের অভিবাসন পরিকল্পনায় এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এই পরিকল্পনা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য কানাডায় অস্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে ২ লাখ ৩০ হাজার কর্মীর লক্ষ্যমাত্রা কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত নয়। চাকরি বা ভিসা পাওয়ার জন্য প্রত্যেক আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, চাকরির শর্ত এবং কানাডার অভিবাসন আইন পূরণ করতে হবে।

 

কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রামে ২০২৬ সালে ৬০ হাজার কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কানাডার কোনো নিয়োগদাতা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল মোবিলিটি প্রোগ্রামে ১ লাখ ৭০ হাজার কর্মীর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার সবচেয়ে বড় অংশ।

 

ইন্টারন্যাশনাল মোবিলিটি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে অনেক ক্যাটাগরিতে শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন বা LMIA প্রয়োজন হয় না। কানাডার অর্থনীতি, সংস্কৃতি বা বৃহত্তর স্বার্থে উপকারী বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য এই কর্মসূচির আওতায় বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

 

অন্যদিকে, টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে অনেক নিয়োগদাতাকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন নিতে হয়। এর মাধ্যমে কানাডার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য উপযুক্ত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।

 

কানাডা সরকার একই সঙ্গে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৬ সালে নতুন অস্থায়ী বাসিন্দাদের সামগ্রিক আগমনের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৮৫ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কানাডার মোট জনসংখ্যার মধ্যে অস্থায়ী বাসিন্দার অংশ ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা।

 

এ কারণে বিদেশি কর্মী নেওয়ার সংখ্যা বড় হলেও কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা আগের তুলনায় আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু বিদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা থাকলেই যে কোনো ব্যক্তি সহজে কানাডায় চাকরি বা ওয়ার্ক পারমিট পাবেন, এমনটি নয়।

 

কানাডার শ্রমবাজারে যেসব খাতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে, সেসব খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা বিদেশি নাগরিকদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট চাকরির অফার, নিয়োগদাতার যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ক পারমিটের শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

 

কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ২ লাখ ৩০ হাজার অস্থায়ী কর্মীর লক্ষ্যমাত্রা ২০২৭ ও ২০২৮ সালে কমিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ওই দুই বছরেই IMP-এর লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭০ হাজার এবং TFWP-এর লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে কানাডার ২ লাখ ৩০ হাজার অস্থায়ী বিদেশি কর্মীর লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশসহ বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সম্ভাবনার খবর। তবে আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের লক্ষ্যমাত্রা, কোনো ব্যক্তির চাকরি বা ভিসার নিশ্চয়তা নয়। কানাডায় কাজের জন্য বৈধ চাকরির সুযোগ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন নিয়ম মেনে আবেদন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

কানাডায় ২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগ, বাংলাদেশিদের বড় সুযোগ

আপডেট টাইম : 07:37:46 pm, Sunday, 23 August 2026

কানাডা সরকার ২০২৬ সালে দুটি প্রধান অস্থায়ী কর্মসূচির আওতায় মোট ২ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি কর্মী নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে ইন্টারন্যাশনাল মোবিলিটি প্রোগ্রাম (IMP) এবং ৬০ হাজার কর্মী নেওয়া হবে টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রাম (TFWP)-এর আওতায়। কানাডা সরকারের ২০২৬-২০২৮ সালের অভিবাসন পরিকল্পনায় এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এই পরিকল্পনা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য কানাডায় অস্থায়ীভাবে কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে ২ লাখ ৩০ হাজার কর্মীর লক্ষ্যমাত্রা কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত নয়। চাকরি বা ভিসা পাওয়ার জন্য প্রত্যেক আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতা, চাকরির শর্ত এবং কানাডার অভিবাসন আইন পূরণ করতে হবে।

 

কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রামে ২০২৬ সালে ৬০ হাজার কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কানাডার কোনো নিয়োগদাতা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে পারেন। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল মোবিলিটি প্রোগ্রামে ১ লাখ ৭০ হাজার কর্মীর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার সবচেয়ে বড় অংশ।

 

ইন্টারন্যাশনাল মোবিলিটি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে অনেক ক্যাটাগরিতে শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন বা LMIA প্রয়োজন হয় না। কানাডার অর্থনীতি, সংস্কৃতি বা বৃহত্তর স্বার্থে উপকারী বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য এই কর্মসূচির আওতায় বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

 

অন্যদিকে, টেম্পোরারি ফরেন ওয়ার্কার প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে অনেক নিয়োগদাতাকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন নিতে হয়। এর মাধ্যমে কানাডার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য উপযুক্ত কর্মী পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।

 

কানাডা সরকার একই সঙ্গে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৬ সালে নতুন অস্থায়ী বাসিন্দাদের সামগ্রিক আগমনের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৮৫ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কানাডার মোট জনসংখ্যার মধ্যে অস্থায়ী বাসিন্দার অংশ ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা।

 

এ কারণে বিদেশি কর্মী নেওয়ার সংখ্যা বড় হলেও কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থা আগের তুলনায় আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু বিদেশি কর্মী নেওয়ার ঘোষণা থাকলেই যে কোনো ব্যক্তি সহজে কানাডায় চাকরি বা ওয়ার্ক পারমিট পাবেন, এমনটি নয়।

 

কানাডার শ্রমবাজারে যেসব খাতে কর্মীর চাহিদা রয়েছে, সেসব খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা বিদেশি নাগরিকদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে নির্দিষ্ট চাকরির অফার, নিয়োগদাতার যোগ্যতা, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ক পারমিটের শর্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

 

কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ২ লাখ ৩০ হাজার অস্থায়ী কর্মীর লক্ষ্যমাত্রা ২০২৭ ও ২০২৮ সালে কমিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ওই দুই বছরেই IMP-এর লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭০ হাজার এবং TFWP-এর লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে কানাডার ২ লাখ ৩০ হাজার অস্থায়ী বিদেশি কর্মীর লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশসহ বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সম্ভাবনার খবর। তবে আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের লক্ষ্যমাত্রা, কোনো ব্যক্তির চাকরি বা ভিসার নিশ্চয়তা নয়। কানাডায় কাজের জন্য বৈধ চাকরির সুযোগ, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট অভিবাসন নিয়ম মেনে আবেদন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।