Dhaka , Sunday, 16 August 2026
শিরোনাম :
বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’ স্বল্প খরচে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

মালয়েশিয়ায় ঋণের চাপে দিশাহারা ১২৬ বাংলাদেশি শ্রমিক

মালয়েশিয়ার পাহাংয়ের প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাক্যাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন. বিএইচডির প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক অভিযোগ করেছেন, তারা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এতে মালয়েশিয়ায় থাকা শ্রমিকদের পাশাপাশি নিজ নিজ দেশে থাকা তাদের পরিবারও আর্থিক সংকটে পড়েছে।

 

১২ আগস্ট ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা কর্মপরিবেশ ও শর্তের সঙ্গে বাস্তব কর্মপরিবেশের বেশ কিছু ক্ষেত্রে মিল নেই।

 

১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের পক্ষে এক মুখপাত্র বলেন, বেতন না পাওয়ায় তারা মালয়েশিয়ায় দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরাও ঋণ ও বাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়েছেন।

 

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে আসার জন্য প্রত্যেক শ্রমিক প্রায় ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ করেছেন। এর বড় একটি অংশ ব্যাংকঋণ, জমির ওপর নেওয়া ঋণ কিংবা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করা অর্থ দিয়ে পরিশোধ করা হয়েছে। আমাদের স্বজনরাও দেশে পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল।

 

তিনি বলেন, আমরা এখানে যেমন সংকটে আছি, তেমনি আমাদের পরিবারের সদস্যরাও দুশ্চিন্তা ও আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। আমরা আশা করি, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

 

কোম্পানিটির বিদেশি বাজারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলো রয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, নিয়োগপত্রে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের কথা উল্লেখ থাকলেও তাদের দিয়ে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হয়। এর বিনিময়ে দৈনিক ৬৫ রিঙ্গিত মজুরি দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেছেন। নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটিও দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ তাদের। শ্রমিকদের মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, কোম্পানি তাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে, যা তাদের নিয়োগচুক্তির শর্তের লঙ্ঘন।

 

এছাড়া বার্ষিক ছুটিতে নিজ দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক শ্রমিকের কাছ থেকে ২৫০০ রিঙ্গিত জামানত চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

 

শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং শ্রম বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে তাদের অভিযোগ তদন্ত করতে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি বলে দাবি করেছেন তারা।

 

এদিকে কোম্পানির এক মুখপাত্র বেতন পরিশোধে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কিছু সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন দিতে দেরি হয়েছে।

 

তিনি জানান, শ্রমিকদের বেতনের একটি অংশ এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

 

কোম্পানির মুখপাত্র বলেন, আমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করব না এমন কথা বলছি না। যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া পরিশোধ করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

 

তবে শ্রমিকরা কোম্পানির দেওয়া পরিকল্পনা মানতে চাইছেন না এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকরা ‘আক্রমণাত্মক’ আচরণ করছেন।

 

কোম্পানির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, শ্রমিকদের দাবির পরিমাণ প্রতিদিন বাড়ছে, ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের অন্যান্য অভিযোগও কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কোম্পানির মুখপাত্র।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ঋণের চাপে দিশাহারা ১২৬ বাংলাদেশি শ্রমিক

আপডেট টাইম : 03:45:49 pm, Thursday, 13 August 2026

মালয়েশিয়ার পাহাংয়ের প্লাইউড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মেনটাক্যাব ভিনিয়ার অ্যান্ড প্লাইউড এসডিএন. বিএইচডির প্রায় ২৫০ জন অভিবাসী শ্রমিক অভিযোগ করেছেন, তারা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এতে মালয়েশিয়ায় থাকা শ্রমিকদের পাশাপাশি নিজ নিজ দেশে থাকা তাদের পরিবারও আর্থিক সংকটে পড়েছে।

 

১২ আগস্ট ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের নাগরিক রয়েছেন। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা কর্মপরিবেশ ও শর্তের সঙ্গে বাস্তব কর্মপরিবেশের বেশ কিছু ক্ষেত্রে মিল নেই।

 

১২৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের পক্ষে এক মুখপাত্র বলেন, বেতন না পাওয়ায় তারা মালয়েশিয়ায় দৈনন্দিন খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরাও ঋণ ও বাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতে সমস্যায় পড়েছেন।

 

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কাজ করতে আসার জন্য প্রত্যেক শ্রমিক প্রায় ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার রিঙ্গিত খরচ করেছেন। এর বড় একটি অংশ ব্যাংকঋণ, জমির ওপর নেওয়া ঋণ কিংবা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার করা অর্থ দিয়ে পরিশোধ করা হয়েছে। আমাদের স্বজনরাও দেশে পাঠানো টাকার ওপর নির্ভরশীল।

 

তিনি বলেন, আমরা এখানে যেমন সংকটে আছি, তেমনি আমাদের পরিবারের সদস্যরাও দুশ্চিন্তা ও আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। আমরা আশা করি, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

 

কোম্পানিটির বিদেশি বাজারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উপসাগরীয় দেশগুলো রয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, নিয়োগপত্রে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের কথা উল্লেখ থাকলেও তাদের দিয়ে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করানো হয়। এর বিনিময়ে দৈনিক ৬৫ রিঙ্গিত মজুরি দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেছেন। নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটিও দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ তাদের। শ্রমিকদের মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, কোম্পানি তাদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে, যা তাদের নিয়োগচুক্তির শর্তের লঙ্ঘন।

 

এছাড়া বার্ষিক ছুটিতে নিজ দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেক শ্রমিকের কাছ থেকে ২৫০০ রিঙ্গিত জামানত চাওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় ফিরে আসা নিশ্চিত করার জন্য এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

 

শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং শ্রম বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে তাদের অভিযোগ তদন্ত করতে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেননি বলে দাবি করেছেন তারা।

 

এদিকে কোম্পানির এক মুখপাত্র বেতন পরিশোধে বিলম্বের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কিছু সমস্যার মুখোমুখি হওয়ায় শ্রমিকদের বেতন দিতে দেরি হয়েছে।

 

তিনি জানান, শ্রমিকদের বেতনের একটি অংশ এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

 

কোম্পানির মুখপাত্র বলেন, আমরা তাদের পাওনা পরিশোধ করব না এমন কথা বলছি না। যত দ্রুত সম্ভব তাদের বকেয়া পরিশোধ করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

 

তবে শ্রমিকরা কোম্পানির দেওয়া পরিকল্পনা মানতে চাইছেন না এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকরা ‘আক্রমণাত্মক’ আচরণ করছেন।

 

কোম্পানির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, শ্রমিকদের দাবির পরিমাণ প্রতিদিন বাড়ছে, ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের অন্যান্য অভিযোগও কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কোম্পানির মুখপাত্র।