কুয়েতে ভুয়া পিতা ও ভাই সাজিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতি নাগরিক পরিচয়ে বসবাসের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ তাঁর ওপর নির্ভরশীল ২২ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
কুয়েতের ন্যাশনালিটি ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, কুয়েতি পরিবারের সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত এক ব্যক্তি ভিন্ন নামে উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিচয়পত্র ব্যবহার করছিলেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তদন্তকারীরা উভয় পরিচয়পত্রের ছবি মিলিয়ে দেখতে পান, ছবিগুলো একই ব্যক্তির হলেও নাম, দাদার নাম ও পারিবারিক পদবিতে সম্পূর্ণ ভিন্নতা রয়ে
অভিযুক্তকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, তিনি কুয়েতি নাগরিক নন। কাগজপত্রে এমন এক কুয়েতি নাগরিককে নিজের পিতা হিসেবে দেখিয়েছেন, যিনি তাঁর জৈবিক পিতা নন। একইভাবে, যাদের নিজের ভাই বলে দাবি করেছিলেন, তারাও কেউ তাঁর রক্তসম্পর্কিত ভাই নন।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কথিত ভাইয়েরাও একই তথ্য স্বীকার করেন। এরপর অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর কথিত ভাইদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে তাদের মধ্যে কোনো জৈবিক ভাই-বোনের সম্পর্ক নেই বলে প্রমাণিত হয়। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রকৃত জাতীয়তা প্রকাশ করেনি কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ঘটনার পর মামলাটি পাবলিক প্রসিকিউশনে পাঠানো হয়। পরে সুপ্রিম কমিটি ফর সিটিজেনশিপ ইনভেস্টিগেশন চারটি মূল প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রমাণগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্য পরিচয় প্রকাশকারী উপসাগরীয় নথিপত্র, অভিযুক্তের নিজের স্বীকারোক্তি, কথিত ভাইদের স্বীকারোক্তি এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। ওই ব্যক্তির ফাইলে তাঁর ১০ সন্তানসহ মোট ২২ জন সন্তান ও নাতি-নাতনি নিবন্ধিত ছিলেন। ফলে জালিয়াতি ও অযোগ্যতার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল ২২ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।
রাষ্ট্রের অধিকার ও তহবিল রক্ষার্থে মামলাটি বিচারবিভাগে পাঠানো হয়েছে।

প্রবাস ডেস্ক 

















