পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডির তরুণ পেন্ট্রা বুশিমা আমিন ইসলাম গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন মুখস্থ, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বুরুন্ডির প্রতিনিধিত্ব করছেন।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে এক মুসলিম বন্ধুর আহ্বানে ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন বুরুন্ডির তরুণ পেন্ট্রা বুশিমা আমিন। ইসলামের মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও জীবনাদর্শ তাঁকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। পরে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর সিদ্ধান্তে অনুপ্রাণিত হয়ে বাবা-মা ও এক বোনসহ পরিবারের আরও চার সদস্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
ইসলাম গ্রহণের পরপরই পবিত্র কোরআন মুখস্থ করার যাত্রা শুরু করেন পেন্ট্রা। অদম্য আগ্রহ, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মাসে তিনি সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর নিয়মিত পুনরাবৃত্তি ও অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের হিফজ ও তেলাওয়াত আরও শুদ্ধ ও দৃঢ় করে তোলেন।
পরবর্তীতে বুরুন্ডির একটি জাতীয় কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০০ প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এ সাফল্যের সুবাদে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন মুখস্থ, তেলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বুরুন্ডির প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান।
এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন নারী ও পুরুষ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন। পবিত্র মসজিদুল হারামে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পেন্ট্রা।
তিনি বলেন, ইসলাম গ্রহণের মাত্র এক বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাফেজদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি কোরআন ও কোরআনের খাদেমদের প্রতি সৌদি আরবের নেতৃত্বের পৃষ্ঠপোষকতার প্রশংসা করেন এবং এমন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
আন্তর্জাতিক ইসলামি সংবাদ সংস্থা আইকিউএনএ ও সৌদি প্রেস এজেন্সির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পেন্ট্রা বুশিমা আমিনের এ অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইসলাম গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার এ অর্জন কোরআনের প্রতি ভালোবাসা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রবাস ডেস্ক 

















