Dhaka , Saturday, 7 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

প্রায় ২ লাখ বিদেশির ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরির অভিযোগে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, অপরাধে জড়িত থাকার পাশাপাশি জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং নিরাপত্তাঝুঁকির মতো বিভিন্ন কারণে বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নেয়। এর পর থেকে ভিসা বাতিলের পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

 

পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাধারীরা যাতে ভিসার নির্ধারিত শর্ত মেনে চলেন এবং দেশটির নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি না করেন, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। এর অংশ হিসেবেই এসব ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

ভিসা বাতিলের উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ। এ ছাড়া ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন, অপহরণ ও মানবপাচার এবং শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণ রাখার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

এদিকে উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০টির বেশি তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ ভিসা বাতিল করেছে। এসব ভিসাধারীর বিরুদ্ধে সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

এ ছাড়া এক রক্ষণশীল অধিকারকর্মী হত্যার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশের অভিযোগে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশটির মূল্যবোধ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো অধিকার নয়; এটি একটি সুবিধা। ভিসার সুযোগের অপব্যবহার হলে আইন অনুযায়ী তা বাতিল করা হতে পারে।

 

একই সঙ্গে ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়েছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

 

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর এই নীতির সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, এ ধরনের নজরদারি বাকস্বাধীনতার ওপর চাপ তৈরি করার পাশাপাশি অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রায় ২ লাখ বিদেশির ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট টাইম : 11:14:55 am, Tuesday, 11 August 2026

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরির অভিযোগে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, অপরাধে জড়িত থাকার পাশাপাশি জালিয়াতি, সহিংসতায় উসকানি এবং নিরাপত্তাঝুঁকির মতো বিভিন্ন কারণে বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত বছর ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নেয়। এর পর থেকে ভিসা বাতিলের পাশাপাশি বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

 

পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাধারীরা যাতে ভিসার নির্ধারিত শর্ত মেনে চলেন এবং দেশটির নাগরিকদের জন্য কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি না করেন, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। এর অংশ হিসেবেই এসব ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

ভিসা বাতিলের উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ। এ ছাড়া ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন, অপহরণ ও মানবপাচার এবং শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণ রাখার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

 

এদিকে উত্তর আফ্রিকার একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০টির বেশি তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ ভিসা বাতিল করেছে। এসব ভিসাধারীর বিরুদ্ধে সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

এ ছাড়া এক রক্ষণশীল অধিকারকর্মী হত্যার ঘটনায় উল্লাস প্রকাশের অভিযোগে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশটির মূল্যবোধ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো অধিকার নয়; এটি একটি সুবিধা। ভিসার সুযোগের অপব্যবহার হলে আইন অনুযায়ী তা বাতিল করা হতে পারে।

 

একই সঙ্গে ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়েছে। আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন উৎস থেকে তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

 

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর এই নীতির সমালোচনা করেছেন অধিকারকর্মী ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, এ ধরনের নজরদারি বাকস্বাধীনতার ওপর চাপ তৈরি করার পাশাপাশি অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।