Dhaka , Saturday, 7 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

প্রবাসী ভোটের এক-চতুর্থাংশ ব্যালট নষ্ট হয়: ইসি সানাউল্লাহ

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটগ্রহণে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যালট নষ্ট হওয়া। বিশ্বব্যাপী এই পদ্ধতিতে প্রায় ২৪ শতাংশ ব্যালট কার্যকর হয় না—অর্থাৎ প্রতি চারটির মধ্যে একটি ভোট সময়মতো পৌঁছায় না। তবুও প্রায় দেড় কোটি প্রবাসীর আগ্রহের কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রবাসী ভোট নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১ কোটি ৪০ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ। এত বড় জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই সীমিত আকারে হলেও প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ভারতে চার কোটি প্রবাসীর মধ্যে নিবন্ধন করেছিলেন মাত্র ১ লাখ ১৯ হাজার, ভোট দিয়েছিলেন ২ হাজার ৯০০ জন। পাকিস্তান এখনো পুরোপুরি এ ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি, শ্রীলঙ্কা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রায় ১৮ লাখ প্রবাসীর মধ্যে গত নির্বাচনে নিবন্ধন করেছিলেন ৫৪ হাজার জন। তবে সেখানে খরচ বহন করতে হয় ভোটারদের নিজেদের, দেশ করে না।

সানাউল্লাহ জানান, পোস্টাল ব্যালটে নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুল ঠিকানা দেওয়া, ভোটারের দেরিতে ভোট পাঠানো এবং সময়মতো ব্যালট না ফেরত আসা। এ ছাড়া গোপনীয়তা বজায় রাখা ও ভোটারকে প্রভাবমুক্ত রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

আরেকটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ভোট শুরু হলেও, যদি আদালতের আদেশে কোনো আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হয়, সেই আসনের বিদেশি সব ভোট বাতিল হয়ে যাবে।

ইসির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি প্রবাসী ভোট সংগ্রহে খরচ হবে গড়ে ৭০০ টাকা। এর জন্য ৪০০ কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে প্রবাসীদের ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে।

দেশের বাইরে ভোট আয়োজন প্রসঙ্গে এই অনলাইন সভা যৌথভাবে আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন ও লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। সভায় ইসি সচিব, এনআইডি মহাপরিচালকসহ কমিশনের কর্মকর্তারা এবং হাইকমিশনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য ৫১ মেডিকেল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ

প্রবাসী ভোটের এক-চতুর্থাংশ ব্যালট নষ্ট হয়: ইসি সানাউল্লাহ

আপডেট টাইম : 07:20:14 pm, Wednesday, 24 September 2025

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোটগ্রহণে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ব্যালট নষ্ট হওয়া। বিশ্বব্যাপী এই পদ্ধতিতে প্রায় ২৪ শতাংশ ব্যালট কার্যকর হয় না—অর্থাৎ প্রতি চারটির মধ্যে একটি ভোট সময়মতো পৌঁছায় না। তবুও প্রায় দেড় কোটি প্রবাসীর আগ্রহের কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রবাসী ভোট নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১ কোটি ৪০ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ। এত বড় জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই সীমিত আকারে হলেও প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ভারতে চার কোটি প্রবাসীর মধ্যে নিবন্ধন করেছিলেন মাত্র ১ লাখ ১৯ হাজার, ভোট দিয়েছিলেন ২ হাজার ৯০০ জন। পাকিস্তান এখনো পুরোপুরি এ ব্যবস্থা চালু করতে পারেনি, শ্রীলঙ্কা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রায় ১৮ লাখ প্রবাসীর মধ্যে গত নির্বাচনে নিবন্ধন করেছিলেন ৫৪ হাজার জন। তবে সেখানে খরচ বহন করতে হয় ভোটারদের নিজেদের, দেশ করে না।

সানাউল্লাহ জানান, পোস্টাল ব্যালটে নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ভুল ঠিকানা দেওয়া, ভোটারের দেরিতে ভোট পাঠানো এবং সময়মতো ব্যালট না ফেরত আসা। এ ছাড়া গোপনীয়তা বজায় রাখা ও ভোটারকে প্রভাবমুক্ত রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

আরেকটি কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ভোট শুরু হলেও, যদি আদালতের আদেশে কোনো আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হয়, সেই আসনের বিদেশি সব ভোট বাতিল হয়ে যাবে।

ইসির হিসাব অনুযায়ী, প্রতি প্রবাসী ভোট সংগ্রহে খরচ হবে গড়ে ৭০০ টাকা। এর জন্য ৪০০ কোটি টাকা বাজেট ধরা হয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে প্রবাসীদের ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে।

দেশের বাইরে ভোট আয়োজন প্রসঙ্গে এই অনলাইন সভা যৌথভাবে আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন ও লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। সভায় ইসি সচিব, এনআইডি মহাপরিচালকসহ কমিশনের কর্মকর্তারা এবং হাইকমিশনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।