২০২৫ সালের শুরু থেকে ফ্রান্স-ইতালি সীমান্তে প্রায় ১০,৪০০ অভিবাসী আটক করেছে ফরাসি সীমান্ত পুলিশ (পিএএফ)। সবচেয়ে বেশি আটক হয়েছে আল্প-মারিতিম অঞ্চলের মন্তো শহরের কাছে। সীমান্তে বাড়তি পুলিশি নজরদারি ও সামরিকীকরণের কারণে অভিবাসীরা আরও ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় প্রেফেকচুরের প্রধান লরো হুতিও জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২০০-৩০০ জনকে আটক করে ইতালিতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। অক্টোবর পর্যন্ত এই প্রবাহ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আটক হওয়া অভিবাসীদের ৪২ শতাংশ সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছেন আঞ্চলিক ট্রেনে, যা ইতালির ভেন্তিমিলিয়া থেকে ফ্রান্সের কোত দাজুর উপকূল ধরে যায়। বেশিরভাগই তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া ও মরক্কো থেকে এসেছেন, এবং ১০ শতাংশই অভিভাবকবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাদের স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।
সীমান্তের নিরাপত্তা কড়া করা হয়েছে। প্রতিদিন ২৫০-৩০০ পুলিশ কর্মকর্তা রেলপথ, মহাসড়ক ও পায়ে হাঁটার রুটে দায়িত্ব পালন করছেন। ড্রোন ও বিমান টহলও চালানো হচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নজরদারিকে ‘অধিকার লঙ্ঘন’ ও ‘বৈষম্যমূলক’ বলে সমালোচনা করেছে।
শেঙ্গেন বিধিমালা অনুযায়ী আটক হওয়া অভিবাসীদের প্রথম আগমনের দেশ অর্থাৎ ইতালিতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। অভিভাবকবিহীন নাবালকরা নিয়মিত ইতালি সামাজিক সুরক্ষা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
অভিবাসীরা ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন—পাহাড়ি রুট, ট্রাকের ভিতর বা রেললাইন ধরে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে ভেন্তিমিলিয়া-মন্তো রুটকে স্থানীয়রা ‘মৃত্যুর পথ’ বলে ডাকে। ২০১৬-২০২৫ সালের মধ্যে সীমান্তে অন্তত ৪৮ জন অভিবাসী মারা গেছেন, সবচেয়ে কনিষ্ঠের বয়স ১৬ বছর। আল্পস অঞ্চলে রাতের সময় সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রবাস ডেস্ক 

















