মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের দেওয়া ১৫ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিক আল আমিনের করা আপিল খারিজ করেছেন দেশটির আপিল আদালত। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এই রায় ঘোষণা করা হয়। চার বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের চাচাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
বিচারপতি আহমদ জাইদি ইব্রাহিম, মোহামেদ জাইনি মাজলান ও নুরিন বদরুদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ রায়ে বলেন, হাইকোর্ট প্রদত্ত সাজা অপরাধের ধরন ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা বিবেচনায় যুক্তিসংগত ও ন্যায্য।
লিখিত রায়ে বিচারপতি জাইনি মাজলান উল্লেখ করেন, জনস্বার্থ ও সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষা করা আদালতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধে সাধারণত ১৮ থেকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সে তুলনায় আল আমিনকে দেওয়া ১৫ বছরের সাজা কোনোভাবেই অতিরিক্ত নয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল কুয়ালালামপুরের জালান ইপো এলাকায় একটি সেলুনের পেছনে এই ঘটনা ঘটে। আল আমিন ও তার চাচা মাহাবুল ইসলাম একই কক্ষে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আল আমিন রাতের খাবারের জন্য পেঁয়াজ কাটছিলেন। এ সময় চাচার বকাঝকার জেরে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে আল আমিন তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে চাচার বুকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মাহাবুল ইসলামকে একটি চেয়ারে বসা ও বুকে হাত চেপে ধরে থাকতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ওই রাতেই পুলিশ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রথমে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার মামলা করা হয়। পরে আদালতে দোষ স্বীকার করায় অভিযোগ পরিবর্তন করে ৩০৪(ক) ধারায় অনিচ্ছাকৃত নরহত্যার মামলা রুজু করা হয়।
নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আল আমিন দাবি করেন, ঘটনার শুরুতে তার চাচাই আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তিনি বলেন, চাচা প্রথমে তার দিকে একটি রঙের বালতি ছুঁড়ে মারেন এবং পরে ঝাড়ু দিয়ে আঘাত করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত ছুরির আঘাত লাগে। তার দাবি, হত্যার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না।
আল আমিন নিজেই আদালতে নিজের পক্ষে সওয়াল করেন এবং সাজা কমিয়ে বাংলাদেশে পরিবারের কাছে ফেরার আবেদন জানান। তবে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর জ্যান্ডার লিম ওয়াই কিয়ং এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আপিল আদালত সাজা কমানোর আবেদন নামঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া ১৫ বছরের কারাদণ্ড বহাল রাখেন।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 

















