Dhaka , Saturday, 7 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের বহিষ্কারাদেশে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

মালয়েশিয়ায় একটি গ্লাভস মোল্ড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির হাইকোর্ট জোরপূর্বক বহিষ্কার ও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

 

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারক তুয়ান হালদার আব্দুল আজিজ ‘মেডিসেরাম এসডিএন বিএইচডি’ নামের প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এক্স-পার্টি ইনজাংশন জারি করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিল্প আদালত ও দেওয়ানি আদালতে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বহিষ্কার বা দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না।

 

আদালত আরও নির্দেশ দেন, অবিলম্বে ৯৩ জন শ্রমিকের পাসপোর্ট ও অন্যান্য ব্যক্তিগত নথিপত্র ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের ওয়ার্ক পারমিট বা সাময়িক কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিলসহ কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কোম্পানি।

 

গত ২২ ডিসেম্বর দায়ের করা মামলার আবেদনে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই নিয়োগকর্তা তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেন। পরবর্তীতে কর্মস্থলে অমানবিক আচরণ ও দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে অংশ নেন। এর জের ধরে অনেক শ্রমিককে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

বর্তমানে শ্রমিকরা হারানো মজুরি, সাধারণ ক্ষতিপূরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ‘মেডিসেরাম’। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শ্রমিকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে চালানো একটি ‘কলঙ্কজনক প্রচারণা’।

 

শ্রমিকদের পক্ষে আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী লুই লিয়াও ও ইরদিনা আজিরা এজলিজাম। আগামী ৭ জানুয়ারি উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মামলার পরবর্তী আন্তঃপক্ষীয় পর্যালোচনা শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের বহিষ্কারাদেশে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট টাইম : 04:58:04 pm, Friday, 26 December 2025

মালয়েশিয়ায় একটি গ্লাভস মোল্ড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির হাইকোর্ট জোরপূর্বক বহিষ্কার ও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

 

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারক তুয়ান হালদার আব্দুল আজিজ ‘মেডিসেরাম এসডিএন বিএইচডি’ নামের প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এক্স-পার্টি ইনজাংশন জারি করেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, শিল্প আদালত ও দেওয়ানি আদালতে চলমান মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বহিষ্কার বা দেশে ফেরত পাঠানো যাবে না।

 

আদালত আরও নির্দেশ দেন, অবিলম্বে ৯৩ জন শ্রমিকের পাসপোর্ট ও অন্যান্য ব্যক্তিগত নথিপত্র ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের ওয়ার্ক পারমিট বা সাময়িক কর্মসংস্থান ভিজিট পাস বাতিলসহ কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না সংশ্লিষ্ট কোম্পানি।

 

গত ২২ ডিসেম্বর দায়ের করা মামলার আবেদনে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, মালয়েশিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই নিয়োগকর্তা তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেন। পরবর্তীতে কর্মস্থলে অমানবিক আচরণ ও দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ ও ধর্মঘটে অংশ নেন। এর জের ধরে অনেক শ্রমিককে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

 

বর্তমানে শ্রমিকরা হারানো মজুরি, সাধারণ ক্ষতিপূরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ‘মেডিসেরাম’। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শ্রমিকদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে চালানো একটি ‘কলঙ্কজনক প্রচারণা’।

 

শ্রমিকদের পক্ষে আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন আইনজীবী লুই লিয়াও ও ইরদিনা আজিরা এজলিজাম। আগামী ৭ জানুয়ারি উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মামলার পরবর্তী আন্তঃপক্ষীয় পর্যালোচনা শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।