Dhaka , Saturday, 7 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

কুয়েতে আবেদনের পাঁচ মিনিটেই মিলছে ফ্যামিলি ও ভিজিট ভিসা

মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতে বাংলাদেশিদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সব ধরনের ভিসা বন্ধ ছিল। কুয়েতে যেতে ইচ্ছুক বহু মানুষ সেই সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ফ্যামিলি ও ভিজিট ভিসা উন্মুক্ত করেছে কুয়েত সরকার।

 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ই-মেইলে ই-ভিসা পৌঁছে যাচ্ছে। আগের ৩০ দিনের পরিবর্তে ভিজিট ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯০ দিন। এই মানবিক সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশিরা।

 

নতুন ভিসা ব্যবস্থায় আয়ের শর্তও শিথিল করা হয়েছে। ফলে অনেক প্রবাসী এখন স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের সহজেই কুয়েতে আনতে পারছেন। একই সঙ্গে পরিবারকে স্বল্প সময়ের জন্য ভ্রমণের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

 

নতুন ভিসা প্ল্যাটফর্মে চারটি ক্যাটাগরিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এগুলো হলো— ট্যুরিস্ট, ফ্যামিলি ভিজিট, বিজনেস এবং গভর্নমেন্ট ভিসা।

 

ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার আওতায় এখন শুধু স্ত্রী ও সন্তান নয়, চার ডিগ্রি পর্যন্ত আত্মীয় আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন— খালা, কাকা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নাতি-নাতনি, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং ছেলে বা মেয়ের স্ত্রী কিংবা স্বামী। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জন্মসনদই যথেষ্ট হলেও, সম্পর্ক নিশ্চিত করতে কিছু ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ প্রয়োজন হতে পারে। সব নথি অবশ্যই আরবি ভাষায় জমা দিতে হবে। অন্য ভাষার নথি অনুমোদিত অফিস থেকে আরবিতে অনুবাদ করে নিতে হবে।

 

এছাড়া জিসিসি দেশগুলোর বাসিন্দা বহু পেশাজীবী কুয়েতের ভিসা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে অথবা আগমনের সময় সহজেই পর্যটন ভিসা পাচ্ছেন। অনুমোদিত পেশার তালিকায় রয়েছেন— কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কূটনীতিক, বিচারক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গোল্ডেন ভিসাধারী, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, হিসাবরক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, পাইলট, মিডিয়া কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

 

আবেদন করার সময় অনুমোদিত পেশাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হয়ে যায়। পাশাপাশি আবেদনকারীদের কুয়েতে নিজস্ব ঠিকানা অথবা আমন্ত্রণকারীর ঠিকানা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইসরাইলের নাগরিক ব্যতীত বিশ্বের প্রায় সব দেশের নাগরিকই এই সুবিধা পাবেন।

 

তবে ভিজিট ভিসায় কোনো ধরনের কাজ করা বা ভিসা পরিবর্তনের চেষ্টা সম্পূর্ণ অবৈধ। আইন লঙ্ঘন করলে ভিজিটরকে নির্বাসন দেওয়া হবে এবং স্পন্সরকেও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ফ্যামিলি ভিজিট ভিসায় সর্বোচ্চ তিন মাস অবস্থানের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিজিট ভিসাও চালু করা হয়েছে, তবে প্রতিবার প্রবেশের পর সর্বোচ্চ এক মাস অবস্থান করে দেশ ত্যাগ করতে হবে।

 

বর্তমানে কুয়েতে বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা সুবিধার অপব্যবহার হলে বাংলাদেশের জন্য আবারও ভিসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্বজনদের দেশে ফেরত পাঠানো নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতে আবেদনের পাঁচ মিনিটেই মিলছে ফ্যামিলি ও ভিজিট ভিসা

আপডেট টাইম : 01:39:15 am, Saturday, 17 January 2026

মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতে বাংলাদেশিদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সব ধরনের ভিসা বন্ধ ছিল। কুয়েতে যেতে ইচ্ছুক বহু মানুষ সেই সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ফ্যামিলি ও ভিজিট ভিসা উন্মুক্ত করেছে কুয়েত সরকার।

 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ই-মেইলে ই-ভিসা পৌঁছে যাচ্ছে। আগের ৩০ দিনের পরিবর্তে ভিজিট ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯০ দিন। এই মানবিক সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কুয়েতপ্রবাসী বাংলাদেশিরা।

 

নতুন ভিসা ব্যবস্থায় আয়ের শর্তও শিথিল করা হয়েছে। ফলে অনেক প্রবাসী এখন স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের সহজেই কুয়েতে আনতে পারছেন। একই সঙ্গে পরিবারকে স্বল্প সময়ের জন্য ভ্রমণের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

 

নতুন ভিসা প্ল্যাটফর্মে চারটি ক্যাটাগরিতে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এগুলো হলো— ট্যুরিস্ট, ফ্যামিলি ভিজিট, বিজনেস এবং গভর্নমেন্ট ভিসা।

 

ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার আওতায় এখন শুধু স্ত্রী ও সন্তান নয়, চার ডিগ্রি পর্যন্ত আত্মীয় আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন— খালা, কাকা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নাতি-নাতনি, শ্বশুর-শাশুড়ি এবং ছেলে বা মেয়ের স্ত্রী কিংবা স্বামী। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জন্মসনদই যথেষ্ট হলেও, সম্পর্ক নিশ্চিত করতে কিছু ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ প্রয়োজন হতে পারে। সব নথি অবশ্যই আরবি ভাষায় জমা দিতে হবে। অন্য ভাষার নথি অনুমোদিত অফিস থেকে আরবিতে অনুবাদ করে নিতে হবে।

 

এছাড়া জিসিসি দেশগুলোর বাসিন্দা বহু পেশাজীবী কুয়েতের ভিসা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনে অথবা আগমনের সময় সহজেই পর্যটন ভিসা পাচ্ছেন। অনুমোদিত পেশার তালিকায় রয়েছেন— কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কূটনীতিক, বিচারক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গোল্ডেন ভিসাধারী, ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, হিসাবরক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, পাইলট, মিডিয়া কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

 

আবেদন করার সময় অনুমোদিত পেশাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হয়ে যায়। পাশাপাশি আবেদনকারীদের কুয়েতে নিজস্ব ঠিকানা অথবা আমন্ত্রণকারীর ঠিকানা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইসরাইলের নাগরিক ব্যতীত বিশ্বের প্রায় সব দেশের নাগরিকই এই সুবিধা পাবেন।

 

তবে ভিজিট ভিসায় কোনো ধরনের কাজ করা বা ভিসা পরিবর্তনের চেষ্টা সম্পূর্ণ অবৈধ। আইন লঙ্ঘন করলে ভিজিটরকে নির্বাসন দেওয়া হবে এবং স্পন্সরকেও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। ফ্যামিলি ভিজিট ভিসায় সর্বোচ্চ তিন মাস অবস্থানের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এক বছরের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিজিট ভিসাও চালু করা হয়েছে, তবে প্রতিবার প্রবেশের পর সর্বোচ্চ এক মাস অবস্থান করে দেশ ত্যাগ করতে হবে।

 

বর্তমানে কুয়েতে বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা তিন লাখেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা সুবিধার অপব্যবহার হলে বাংলাদেশের জন্য আবারও ভিসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্বজনদের দেশে ফেরত পাঠানো নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।