কুয়েতের আল-সালমি এলাকায় একটি পশুপালন খামারে অগ্নিকাণ্ডের আড়ালে এক গালফ নাগরিককে হত্যার ঘটনায় এক বাংলাদেশি নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে মনে করা হলেও নিহতের গাড়ি ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। একপর্যায়ে নিহতের গাড়ির ভেতরে রক্তের দাগ এবং আশপাশে তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়।
পরে খামারের দায়িত্বে থাকা এক বাংলাদেশি নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের বরাতে জানা যায়, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই বাংলাদেশি কাঠের লাঠি দিয়ে ভুক্তভোগীর মাথা ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে দেখাতে তাকে খামারের পশুখাদ্য রাখার স্থানে নিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করতে রক্তের দাগ মুছে ফেলা এবং বিভিন্ন প্রমাণ গোপনেরও চেষ্টা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশি ওই নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তবে আটক বাংলাদেশি নাগরিকের নাম-পরিচয় ও বিস্তারিত ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কুয়েত প্রশাসন।

কুয়েত প্রতিনিধি 

















