Dhaka , Saturday, 7 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

ইন্দোনেশিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণে সামরিক বিমান পাঠাল অস্ট্রেলিয়া

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য সামরিক পরিবহন বিমান পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব দাবানলের ধোঁয়া ও বিষাক্ত কুয়াশা আশপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছে দুই দেশের সরকার।

কয়েক মাস ধরে চলা দাবানলে বিস্তীর্ণ বনভূমি পুড়ে গেছে। এর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। বিষাক্ত ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাজধানী জাকার্তা থেকে সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের একটি সামরিক পরিবহন বিমান পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের অভিযানে বিমানটি অংশ নেবে।

বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটির প্রধান ক্রিস্টোমেই সিয়ান্তুরি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা এবং অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দেখা গেছে, পূর্ব কালিমান্তান অঞ্চলে এখনো অনেক এলাকায় আগুন জ্বলছে।’

ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সি-১৩০ বিমানটি প্রতিবার উড্ডয়নে ১৫ হাজার লিটার পানি ছিটাতে সক্ষম। দিনে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এটি এক লাখ লিটারেরও বেশি পানি ফেলতে পারবে।

ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত রড ব্রেজিয়ার বলেন, দুই দেশ দীর্ঘদিনের বন্ধু। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার সহায়তার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া অগ্নিনির্বাপণ অভিযানে সহায়তার জন্য একটি সেসনা সাইটেশন উড়োজাহাজও পাঠাচ্ছে। এটি মূল বিমানকে পথ দেখানোর কাজ করবে। পাশাপাশি পাইলট, উড়োজাহাজের কর্মী ও প্যারামেডিকসহ ২০ সদস্যের একটি দলও পাঠানো হচ্ছে।

আগামী ৬ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিন এ বিমান অভিযান চলার কথা রয়েছে।

বন উজাড়ের ওপর নজরদারিকারী সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এসব দাবানলে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিপুল বনভূমি ধ্বংসের অন্যতম কারণ হলো জমি পরিষ্কারের জন্য গাছপালা কেটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি। কাঠ, পাম অয়েল ও খনি ব্যবসার সম্প্রসারণের সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে।

বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ইন্দোনেশিয়ায় চার লাখের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পশ্চিম কালিমান্তান অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য জাপানও প্রায় ৩৫০ জন সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য ও তিনটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছিল।

Tag :
About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্দোনেশিয়ার দাবানল নিয়ন্ত্রণে সামরিক বিমান পাঠাল অস্ট্রেলিয়া

আপডেট টাইম : 11:09:04 am, Saturday, 7 November 2026

ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য সামরিক পরিবহন বিমান পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব দাবানলের ধোঁয়া ও বিষাক্ত কুয়াশা আশপাশের দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছে দুই দেশের সরকার।

কয়েক মাস ধরে চলা দাবানলে বিস্তীর্ণ বনভূমি পুড়ে গেছে। এর ফলে সৃষ্ট বায়ুদূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। বিষাক্ত ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাজধানী জাকার্তা থেকে সি-১৩০ হারকিউলিস মডেলের একটি সামরিক পরিবহন বিমান পূর্ব কালিমান্তান প্রদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের অভিযানে বিমানটি অংশ নেবে।

বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটির প্রধান ক্রিস্টোমেই সিয়ান্তুরি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা এবং অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি দলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দেখা গেছে, পূর্ব কালিমান্তান অঞ্চলে এখনো অনেক এলাকায় আগুন জ্বলছে।’

ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সি-১৩০ বিমানটি প্রতিবার উড্ডয়নে ১৫ হাজার লিটার পানি ছিটাতে সক্ষম। দিনে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এটি এক লাখ লিটারেরও বেশি পানি ফেলতে পারবে।

ইন্দোনেশিয়ায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত রড ব্রেজিয়ার বলেন, দুই দেশ দীর্ঘদিনের বন্ধু। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানল মোকাবিলায় ইন্দোনেশিয়ার সহায়তার কথাও স্মরণ করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়া অগ্নিনির্বাপণ অভিযানে সহায়তার জন্য একটি সেসনা সাইটেশন উড়োজাহাজও পাঠাচ্ছে। এটি মূল বিমানকে পথ দেখানোর কাজ করবে। পাশাপাশি পাইলট, উড়োজাহাজের কর্মী ও প্যারামেডিকসহ ২০ সদস্যের একটি দলও পাঠানো হচ্ছে।

আগামী ৬ থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিন এ বিমান অভিযান চলার কথা রয়েছে।

বন উজাড়ের ওপর নজরদারিকারী সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাসের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এসব দাবানলে ১৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিপুল বনভূমি ধ্বংসের অন্যতম কারণ হলো জমি পরিষ্কারের জন্য গাছপালা কেটে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি। কাঠ, পাম অয়েল ও খনি ব্যবসার সম্প্রসারণের সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে।

বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ইন্দোনেশিয়ায় চার লাখের বেশি মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পশ্চিম কালিমান্তান অঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য জাপানও প্রায় ৩৫০ জন সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের সদস্য ও তিনটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছিল।