পাকিস্তানের আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সশস্ত্র মিলিশিয়াদের হামলায় ছয় সেনাসদস্য ও তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি গণমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর—রয়টার্স।
ঘটনাটি ঘটেছে সাবেক উপজাতীয় এলাকা কুররম জেলায়। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চলা এ হামলায় একটি নিরাপত্তা চৌকি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আকস্মিক গুলিবর্ষণের মাধ্যমে হামলাকারীরা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। গত অক্টোবরে দুই দেশের সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়—যা ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর সবচেয়ে গুরুতর সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচিত।
পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে—আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যা তাদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার ফল।
কার করেনি কোনো গোষ্ঠী। তবে এ অঞ্চলে দুই দশক ধরে সক্রিয় টিটিপি বা পাকিস্তানি তালেবান রাষ্ট্রবিরোধী সশস্ত্র কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তের দুর্গম এলাকায় এসব সংগঠনের ঘাঁটি রয়েছে।
তুরস্ক, কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে তিন দফা শান্তি আলোচনা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। সীমান্ত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
একসময় কাবুল ও ইসলামাবাদ ছিল ঘনিষ্ঠ মিত্র। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারী অস্ত্রের ব্যবহার ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্ক গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত শুক্রবারের সংঘর্ষেও অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
আফগান তালেবান টিটিপির সঙ্গে ‘অপারেশনাল সম্পর্ক’ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করলেও বিশ্লেষকদের মতে—দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শগত সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



















