Dhaka , Thursday, 24 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচার শুরু

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি)। এই আদালত বিশ্বব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড কোর্ট’ নামেও পরিচিত।

 

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আইসিজিতে সোমবার (স্থানীয় সময় সকাল ১০টা, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। ধারাবাহিক এই শুনানি পর্ব টানা প্রায় তিন সপ্তাহ চলবে।

 

রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত মামলাটির তদন্তে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌজিমান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

২০১৭ সালের জুলাইয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ছাউনিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার দায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর ওপর চাপায় মিয়ানমার সরকার। এরপর একই মাসে রাখাইন রাজ্যের সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।

 

অভিযানের সময় বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে। প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে পালিয়ে যায়। বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে, সে সময় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যাদের বড় একটি অংশ এখনো কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থান করছে।

 

এই সামরিক অভিযানের পর জাতিসংঘের একটি তদন্ত দল ঘটনাটি অনুসন্ধান করে। তাদের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে ‘গণহত্যামূলক উদ্দেশ্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত’ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা দায়ের করে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া শুনানি সেই মামলারই বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।

রোহিঙ্গা নিপীড়নের সময় মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন নোবেলজয়ী অং সান সুচি। তিনি জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গাম্বিয়ার করা মামলাকেও তিনি ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দেন।

 

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন অং সান সুচি। বর্তমানে তিনি মিয়ানমারের কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত আদালতে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিচার চলছে।

 

মামলার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌজিমান রয়টার্সকে বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণহত্যার সংজ্ঞা, প্রমাণের মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচার শুরু

আপডেট টাইম : 10:43:21 pm, Monday, 12 January 2026

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি)। এই আদালত বিশ্বব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড কোর্ট’ নামেও পরিচিত।

 

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আইসিজিতে সোমবার (স্থানীয় সময় সকাল ১০টা, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। ধারাবাহিক এই শুনানি পর্ব টানা প্রায় তিন সপ্তাহ চলবে।

 

রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত মামলাটির তদন্তে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থা ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌজিমান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

২০১৭ সালের জুলাইয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ছাউনিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার দায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর ওপর চাপায় মিয়ানমার সরকার। এরপর একই মাসে রাখাইন রাজ্যের সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।

 

অভিযানের সময় বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠে। প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে পালিয়ে যায়। বাংলাদেশ সরকারের হিসাবে, সে সময় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যাদের বড় একটি অংশ এখনো কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে অবস্থান করছে।

 

এই সামরিক অভিযানের পর জাতিসংঘের একটি তদন্ত দল ঘটনাটি অনুসন্ধান করে। তাদের প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে ‘গণহত্যামূলক উদ্দেশ্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত’ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা দায়ের করে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া শুনানি সেই মামলারই বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।

রোহিঙ্গা নিপীড়নের সময় মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন নোবেলজয়ী অং সান সুচি। তিনি জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গাম্বিয়ার করা মামলাকেও তিনি ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দেন।

 

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন অং সান সুচি। বর্তমানে তিনি মিয়ানমারের কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং সেনা নিয়ন্ত্রিত আদালতে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিচার চলছে।

 

মামলার প্রধান তদন্তকারী নিকোলাস কৌজিমান রয়টার্সকে বলেন, এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণহত্যার সংজ্ঞা, প্রমাণের মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে পারে।