Dhaka , Sunday, 8 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতা যাচাই করতে কিংবা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায়, তাহলে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত— এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আলজাজিরা আরবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে, তবে একই সঙ্গে ইরান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

 

তিনি জানান, গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে সামরিক প্রস্তুতি ইরানের ছিল, বর্তমানে তা আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি সুসংগঠিত।

 

আব্বাস আরাগচি বলেন, “ওয়াশিংটন যদি আমাদের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়— যা তারা অতীতেও করেছে— তাহলে আমরা প্রস্তুত। তবে আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের বদলে যুক্তিবোধের পরিচয় দিয়ে আলোচনাকেই বেছে নেবে।” একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে উসকানি দেওয়া শক্তিগুলোকেও সতর্ক করেন।

 

দেশে চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এসব আন্দোলনে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসীরা অনুপ্রবেশ করেছে। তার মতে, তারাই বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

 

উল্লেখ্য, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ, যা অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভের কারণে ইরানের অনেক অঞ্চল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— ইরানি সরকার যদি কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করে, তাহলে সামরিক অভিযানের পথও খোলা রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তার সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত।

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট টাইম : 07:09:32 pm, Tuesday, 13 January 2026

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতা যাচাই করতে কিংবা সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায়, তাহলে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত— এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) আলজাজিরা আরবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনও খোলা রয়েছে, তবে একই সঙ্গে ইরান যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

 

তিনি জানান, গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে সামরিক প্রস্তুতি ইরানের ছিল, বর্তমানে তা আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি সুসংগঠিত।

 

আব্বাস আরাগচি বলেন, “ওয়াশিংটন যদি আমাদের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়— যা তারা অতীতেও করেছে— তাহলে আমরা প্রস্তুত। তবে আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের বদলে যুক্তিবোধের পরিচয় দিয়ে আলোচনাকেই বেছে নেবে।” একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়াতে উসকানি দেওয়া শক্তিগুলোকেও সতর্ক করেন।

 

দেশে চলমান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, এসব আন্দোলনে সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসীরা অনুপ্রবেশ করেছে। তার মতে, তারাই বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

 

উল্লেখ্য, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ, যা অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে বিক্ষোভের কারণে ইরানের অনেক অঞ্চল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন— ইরানি সরকার যদি কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করে, তাহলে সামরিক অভিযানের পথও খোলা রয়েছে।

 

 

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রোববার দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তার সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত।