Dhaka , Sunday, 8 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

লিবিয়ায় ভূগর্ভস্থ ‘গোপন কারাগার’ থেকে দুই শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার

লিবিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুফরা শহরে একটি ভূগর্ভস্থ গোপন কারাগার থেকে ২০০ জনেরও বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া অনেক অভিবাসী সেখানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি ছিলেন।

 

রোববার কুফরার অন্তত দুটি নিরাপত্তা সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, প্রায় তিন মিটার গভীর একটি ভূগর্ভস্থ কারাগারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে অমানবিক পরিবেশে অভিবাসীদের আটকে রাখা হয়েছিল। তাদের দাবি, লিবীয় এক মানবপাচারকারী এই কারাগারটি পরিচালনা করছিলেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

দেশটির এক কর্মকর্তা বলেন, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ কেউ টানা দুই বছর পর্যন্ত বন্দি ছিলেন। তিনি ঘটনাটিকে মানবতার বিরুদ্ধে অন্যতম ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন।

 

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে শহরের ভেতরে অবস্থিত ওই গোপন কারাগারে একাধিক অমানবিক ভূগর্ভস্থ কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। মুক্তিপ্রাপ্ত অভিবাসীরা মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়া থেকে আসা। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

 

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে দেশটির পূর্বাঞ্চলে কুফরা শহরের অবস্থান।

 

২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির পতনের পর থেকে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টাকারী অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে লিবিয়া। সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা মানুষ মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথে লিবিয়ায় প্রবেশ করছেন।

 

তেলসমৃদ্ধ দেশ হওয়ায় লিবিয়ার অর্থনীতি অনেক দরিদ্র অভিবাসীর কাছে কাজের আশায় আকর্ষণীয় হলেও দুর্বল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তারা প্রায়ই নির্যাতন, মানবপাচার ও সহিংসতার শিকার হন।

 

গত সপ্তাহে পূর্ব লিবিয়ায় একটি গণকবর থেকে অন্তত ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই দলের মধ্যে জীবিত উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০ জনের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

 

এ ঘটনায় লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, গণকবরের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় ‘অভিবাসীদের ওপর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুফরা এলাকায় প্রায় ৫৫টি গণকবর থেকে ৩৯ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩ সালে সুদানে সংঘাত শুরুর পর পালিয়ে আসা দশ হাজারের বেশি সুদানি শরণার্থীও বর্তমানে কুফরা শহরে অবস্থান করছেন।

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

লিবিয়ায় ভূগর্ভস্থ ‘গোপন কারাগার’ থেকে দুই শতাধিক অভিবাসী উদ্ধার

আপডেট টাইম : 12:00:46 am, Tuesday, 20 January 2026

লিবিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কুফরা শহরে একটি ভূগর্ভস্থ গোপন কারাগার থেকে ২০০ জনেরও বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া অনেক অভিবাসী সেখানে দুই বছরের বেশি সময় ধরে বন্দি ছিলেন।

 

রোববার কুফরার অন্তত দুটি নিরাপত্তা সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, প্রায় তিন মিটার গভীর একটি ভূগর্ভস্থ কারাগারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে অমানবিক পরিবেশে অভিবাসীদের আটকে রাখা হয়েছিল। তাদের দাবি, লিবীয় এক মানবপাচারকারী এই কারাগারটি পরিচালনা করছিলেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

দেশটির এক কর্মকর্তা বলেন, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ কেউ টানা দুই বছর পর্যন্ত বন্দি ছিলেন। তিনি ঘটনাটিকে মানবতার বিরুদ্ধে অন্যতম ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন।

 

নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে শহরের ভেতরে অবস্থিত ওই গোপন কারাগারে একাধিক অমানবিক ভূগর্ভস্থ কক্ষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। মুক্তিপ্রাপ্ত অভিবাসীরা মূলত সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়া থেকে আসা। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

 

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে দেশটির পূর্বাঞ্চলে কুফরা শহরের অবস্থান।

 

২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফির পতনের পর থেকে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টাকারী অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে লিবিয়া। সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা মানুষ মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথে লিবিয়ায় প্রবেশ করছেন।

 

তেলসমৃদ্ধ দেশ হওয়ায় লিবিয়ার অর্থনীতি অনেক দরিদ্র অভিবাসীর কাছে কাজের আশায় আকর্ষণীয় হলেও দুর্বল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তারা প্রায়ই নির্যাতন, মানবপাচার ও সহিংসতার শিকার হন।

 

গত সপ্তাহে পূর্ব লিবিয়ায় একটি গণকবর থেকে অন্তত ২১ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওই দলের মধ্যে জীবিত উদ্ধার হওয়া প্রায় ১০ জনের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

 

এ ঘটনায় লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, গণকবরের সন্ধান পাওয়ার ঘটনায় ‘অভিবাসীদের ওপর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুফরা এলাকায় প্রায় ৫৫টি গণকবর থেকে ৩৯ জন অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৩ সালে সুদানে সংঘাত শুরুর পর পালিয়ে আসা দশ হাজারের বেশি সুদানি শরণার্থীও বর্তমানে কুফরা শহরে অবস্থান করছেন।