Dhaka , Sunday, 8 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

প্রবাসীদের বড় দুঃসংবাদ দিল সৌদি আরব

প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির শ্রমবাজারে নিজস্ব নাগরিকদের আধিপত্য বাড়াতে মার্কেটিং ও সেলস খাতে সৌদিকরণ নীতি আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জারি করা এক আদেশে জানায়, এখন থেকে মার্কেটিং ও সেলস খাতের প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৬০ শতাংশ কর্মী হতে হবে সৌদি নাগরিক। দীর্ঘমেয়াদি ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রবাসীদের পরিবর্তে স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে কয়েক লাখ প্রবাসী কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। খবর প্রকাশ করেছে সৌদি গ্যাজেট।

 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে অন্তত তিনজন কর্মী রয়েছেন, তাদের মোট জনবলের অর্ধেকের বেশি সৌদি নাগরিক দিয়ে পূরণ করতে হবে। এর আওতায় মার্কেটিং ম্যানেজার, বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞ, গ্রাফিক ডিজাইনার ও জনসংযোগ কর্মকর্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ সরাসরি সৌদিকরণ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

এছাড়া সেলস খাতে বিক্রয় ব্যবস্থাপক, আইটি ও যোগাযোগ যন্ত্রাংশ বিক্রয় বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন পদের ক্ষেত্রেও প্রবাসী কর্মীদের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। সরকারি এই সিদ্ধান্ত আগামী তিন মাস পর থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হবে।

 

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এসব পদে নিযুক্ত সৌদি কর্মীদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৫ হাজার ৫০০ রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত বেসরকারি খাতকে স্থানীয় নাগরিকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং দক্ষ সৌদি কর্মীদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে মার্কেটিং ও সেলস খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মী—বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর নাগরিকরা—সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সৌদিকরণ প্রক্রিয়া আরও জোরদার হওয়ায় ভবিষ্যতে অন্যান্য খাতেও প্রবাসী কর্মীদের বিদায় নিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক শ্রম বিশ্লেষকরা।

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবাসীদের বড় দুঃসংবাদ দিল সৌদি আরব

আপডেট টাইম : 01:41:47 pm, Tuesday, 20 January 2026

প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ দিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির শ্রমবাজারে নিজস্ব নাগরিকদের আধিপত্য বাড়াতে মার্কেটিং ও সেলস খাতে সৌদিকরণ নীতি আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় জারি করা এক আদেশে জানায়, এখন থেকে মার্কেটিং ও সেলস খাতের প্রতিষ্ঠানে অন্তত ৬০ শতাংশ কর্মী হতে হবে সৌদি নাগরিক। দীর্ঘমেয়াদি ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রবাসীদের পরিবর্তে স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে কয়েক লাখ প্রবাসী কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। খবর প্রকাশ করেছে সৌদি গ্যাজেট।

 

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে অন্তত তিনজন কর্মী রয়েছেন, তাদের মোট জনবলের অর্ধেকের বেশি সৌদি নাগরিক দিয়ে পূরণ করতে হবে। এর আওতায় মার্কেটিং ম্যানেজার, বিজ্ঞাপন বিশেষজ্ঞ, গ্রাফিক ডিজাইনার ও জনসংযোগ কর্মকর্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ সরাসরি সৌদিকরণ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

এছাড়া সেলস খাতে বিক্রয় ব্যবস্থাপক, আইটি ও যোগাযোগ যন্ত্রাংশ বিক্রয় বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন পদের ক্ষেত্রেও প্রবাসী কর্মীদের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। সরকারি এই সিদ্ধান্ত আগামী তিন মাস পর থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হবে।

 

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এসব পদে নিযুক্ত সৌদি কর্মীদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৫ হাজার ৫০০ রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত বেসরকারি খাতকে স্থানীয় নাগরিকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা এবং দক্ষ সৌদি কর্মীদের চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে মার্কেটিং ও সেলস খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মী—বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর নাগরিকরা—সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সৌদিকরণ প্রক্রিয়া আরও জোরদার হওয়ায় ভবিষ্যতে অন্যান্য খাতেও প্রবাসী কর্মীদের বিদায় নিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক শ্রম বিশ্লেষকরা।