বাংলাদেশের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্ষুদ্রঋণ (মাইক্রোক্রেডিট) মডেল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি মডেল মালদ্বীপে প্রয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন মালদ্বীপ ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমএনসিসিআই)। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল মালদ্বীপ সফরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এমএনসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ মামদুহ এবং চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হলে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মালদ্বীপের ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ জানান, দেশটিতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের সফল ক্ষুদ্রঋণ মডেল অনুসরণে তারা আগ্রহী। তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচনে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত এই মডেলটি মালদ্বীপের স্থানীয় ব্যবসায়িক পরিবেশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
এ সময় মালদ্বীপের ব্যবসায়িক নেতারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তি খাতে অর্জিত সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা এসব অগ্রগতি সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল নিয়ে শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া দুই দেশের বেসরকারি খাতের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে যৌথ বাণিজ্য মেলা ও বাণিজ্য প্রদর্শনী আয়োজনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
বৈঠকে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রমের পরিধি ক্রমেই বাড়ছে, যা বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে লজিস্টিকস ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করছে। তিনি বাংলাদেশের বিস্তৃত শিল্পভিত্তি ও প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মালদ্বীপে বাংলাদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
বৈঠকে সংকটকালীন সময়ে মালদ্বীপে পানীয় জল সরবরাহে বাংলাদেশের দ্রুত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মালদ্বীপের ব্যবসায়িক নেতারা। একই সঙ্গে মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের কঠোর পরিশ্রম ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন হাইকমিশনার এবং দেশটির অর্থনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

প্রবাস ডেস্ক 



















