Dhaka , Sunday, 8 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

শবে বরাত গুনাহ মাফের এক সুবর্ণ সুযোগ

ইসলামে শবে বরাতকে গুনাহ মাফের এক বিশেষ রাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহ তাআলা দয়াময়, বান্দাদের জন্য অসংখ্য সুযোগ রেখেছেন পাপ মোচনের। এই রাতের সুযোগ গ্রহণ করলে তিনি পাপকে ক্ষমা করে অন্তরকে আলোকিত করেন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে শবে বরাত নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে দুই ধরনের ভ্রান্ত ধারণা লক্ষ্য করা যায়। একদিকে রয়েছে যারা রাতটিকে অতিরিক্ত উদযাপন করে, বিভিন্ন রসম-রেওয়াজ বা বিদআতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, যা ইসলামে জায়েজ নয়। অন্যদিকে রয়েছে যারা শবে বরাতের কোনও গুরুত্বই নেই বলে দাবি করেন, সব হাদিসকে জাল আখ্যায়িত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।

 

উভয় প্রান্ত থেকে দূরে থেকে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা এবং রাতের গুরুত্ব বোঝানোই ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের লক্ষ্য।

 

শবে বরাতের ফজিলত ও প্রমাণ

 

> সহিহ ইবনে হিব্বানসহ শাস্ত্রজ্ঞদের বর্ণনা অনুযায়ী, শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তাআলা সকল বান্দার দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করেন।

 

সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে আগমন করেন এবং কালব গোত্রের বকরির পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশি মানুষকে ক্ষমা করেন।

 

শবে বরাতে করণীয় কাজ

 

এই রাতে বিশেষ কোন ফরজ ইবাদত নেই, তবে নফল ইবাদত ও সৎ কাজগুলো করে মাগফিরাত অর্জন করা যায়। যেমন:

 

>বেশি নফল নামাজ পড়া

 

>তিলাওয়াত, জিকির ও আজকার করা

 

>দোয়া ও কান্না-কাটি করে ক্ষমা চাওয়া

 

>পরের দিন, অর্থাৎ ১৫ শাবান, রোজা রাখা

 

বর্জনীয় কাজ

 

শবে বরাতকে বিদআত নয়, তবে কিছু কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও নিষিদ্ধ। যেমন:

 

>মিষ্টি বা হালুয়া বিতরণ

 

>মসজিদ, বাড়ি বা অফিসে আলোকসজ্জা

 

>পটকা, আতশবাজি

 

>কবর বা মাজারে ফুল দেওয়া ও আলোকসজ্জা

 

>দলবেঁধে কবরস্থানে যাওয়া (যদি একবার জীবনে গেলে মুস্তাহাব হিসেবে গ্রহণযোগ্য)

 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বিদআতের প্রভাবে আল্লাহ তাআলা সেই ইবাদত গ্রহণ করেন না। হাদিসে বর্ণিত, বিদআতের নামাজ, রোজা, দান-সদকা, হজ, উমরা বা জিহাদও কবুল হয় না।

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

শবে বরাত গুনাহ মাফের এক সুবর্ণ সুযোগ

আপডেট টাইম : 12:11:47 am, Wednesday, 4 February 2026

ইসলামে শবে বরাতকে গুনাহ মাফের এক বিশেষ রাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আল্লাহ তাআলা দয়াময়, বান্দাদের জন্য অসংখ্য সুযোগ রেখেছেন পাপ মোচনের। এই রাতের সুযোগ গ্রহণ করলে তিনি পাপকে ক্ষমা করে অন্তরকে আলোকিত করেন।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে শবে বরাত নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে দুই ধরনের ভ্রান্ত ধারণা লক্ষ্য করা যায়। একদিকে রয়েছে যারা রাতটিকে অতিরিক্ত উদযাপন করে, বিভিন্ন রসম-রেওয়াজ বা বিদআতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, যা ইসলামে জায়েজ নয়। অন্যদিকে রয়েছে যারা শবে বরাতের কোনও গুরুত্বই নেই বলে দাবি করেন, সব হাদিসকে জাল আখ্যায়িত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন।

 

উভয় প্রান্ত থেকে দূরে থেকে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা এবং রাতের গুরুত্ব বোঝানোই ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের লক্ষ্য।

 

শবে বরাতের ফজিলত ও প্রমাণ

 

> সহিহ ইবনে হিব্বানসহ শাস্ত্রজ্ঞদের বর্ণনা অনুযায়ী, শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তাআলা সকল বান্দার দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ব্যতীত সকলকে ক্ষমা করেন।

 

সুনানে তিরমিজিতে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে আগমন করেন এবং কালব গোত্রের বকরির পশমের সংখ্যার চেয়েও বেশি মানুষকে ক্ষমা করেন।

 

শবে বরাতে করণীয় কাজ

 

এই রাতে বিশেষ কোন ফরজ ইবাদত নেই, তবে নফল ইবাদত ও সৎ কাজগুলো করে মাগফিরাত অর্জন করা যায়। যেমন:

 

>বেশি নফল নামাজ পড়া

 

>তিলাওয়াত, জিকির ও আজকার করা

 

>দোয়া ও কান্না-কাটি করে ক্ষমা চাওয়া

 

>পরের দিন, অর্থাৎ ১৫ শাবান, রোজা রাখা

 

বর্জনীয় কাজ

 

শবে বরাতকে বিদআত নয়, তবে কিছু কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও নিষিদ্ধ। যেমন:

 

>মিষ্টি বা হালুয়া বিতরণ

 

>মসজিদ, বাড়ি বা অফিসে আলোকসজ্জা

 

>পটকা, আতশবাজি

 

>কবর বা মাজারে ফুল দেওয়া ও আলোকসজ্জা

 

>দলবেঁধে কবরস্থানে যাওয়া (যদি একবার জীবনে গেলে মুস্তাহাব হিসেবে গ্রহণযোগ্য)

 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, বিদআতের প্রভাবে আল্লাহ তাআলা সেই ইবাদত গ্রহণ করেন না। হাদিসে বর্ণিত, বিদআতের নামাজ, রোজা, দান-সদকা, হজ, উমরা বা জিহাদও কবুল হয় না।