Dhaka , Saturday, 7 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

বাংলাদেশি কর্মীদের কাজে মুগ্ধ কোকা-কোলা

কোকা-কোলা মালদ্বীপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিলিন্দ দেরাসারি সম্প্রতি মালেতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

 

বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কোকা-কোলা মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ, অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

 

বৈঠকে হাইকমিশনার মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করায় কোকা-কোলা মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

 

তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা মালদ্বীপের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন।

 

মিলিন্দ দেরাসারি জানান, বর্তমানে কোকা-কোলা মালদ্বীপে ২০০-এর বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কারিগরি, প্রশাসনিক, উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনাসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের সততা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেন।

 

বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। হাইকমিশনার সময়মতো ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে বেতন পরিশোধ এবং মার্কিন ডলারে বেতন প্রদান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

তিনি বলেন, এতে কর্মীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে নিরাপদে ও সহজে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, যা তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক।

 

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুদ্রায় বেতন প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখে।

 

জবাবে মিলিন্দ দেরাসারি জানান, বর্তমানে কোম্পানিটি বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন মার্কিন ডলারে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ব্যবস্থা যথাসম্ভব অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা, কল্যাণ ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইউনিভার্সাল গ্রুপের আওতাধীন কোকা-কোলা মালদ্বীপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

 

মিলিন্দ দেরাসারি জানান, থুলুসধু দ্বীপে কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

হাইকমিশনার নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি জনশক্তি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে আরও কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান।

 

বৈঠকে কোকা-কোলা মালদ্বীপের কার্যক্রম, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনা হয়।

 

হাইকমিশনার বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, রপ্তানি সম্ভাবনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

 

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নৈতিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশি কর্মীদের কাজে মুগ্ধ কোকা-কোলা

আপডেট টাইম : 05:10:31 pm, Wednesday, 1 July 2026

কোকা-কোলা মালদ্বীপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিলিন্দ দেরাসারি সম্প্রতি মালেতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

 

বৈঠকে বাংলাদেশ হাইকমিশনে কোকা-কোলা মালদ্বীপে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ, অধিকার, পেশাগত উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

 

বৈঠকে হাইকমিশনার মালদ্বীপে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করায় কোকা-কোলা মালদ্বীপ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

 

তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা মালদ্বীপের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন।

 

মিলিন্দ দেরাসারি জানান, বর্তমানে কোকা-কোলা মালদ্বীপে ২০০-এর বেশি বাংলাদেশি নাগরিক কারিগরি, প্রশাসনিক, উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনাসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশি কর্মীদের সততা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও পরিশ্রমের প্রশংসা করেন।

 

বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। হাইকমিশনার সময়মতো ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে বেতন পরিশোধ এবং মার্কিন ডলারে বেতন প্রদান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

তিনি বলেন, এতে কর্মীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে নিরাপদে ও সহজে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, যা তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক।

 

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুদ্রায় বেতন প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখে।

 

জবাবে মিলিন্দ দেরাসারি জানান, বর্তমানে কোম্পানিটি বাংলাদেশি কর্মীদের বেতন মার্কিন ডলারে দিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ব্যবস্থা যথাসম্ভব অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা, কল্যাণ ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইউনিভার্সাল গ্রুপের আওতাধীন কোকা-কোলা মালদ্বীপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

 

মিলিন্দ দেরাসারি জানান, থুলুসধু দ্বীপে কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

হাইকমিশনার নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি জনশক্তি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে আরও কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানান।

 

বৈঠকে কোকা-কোলা মালদ্বীপের কার্যক্রম, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনা হয়।

 

হাইকমিশনার বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, রপ্তানি সম্ভাবনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

 

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশি প্রবাসীদের কল্যাণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নৈতিক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।