Dhaka , Saturday, 7 November 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের আস্তানায় অভিযান, ১৮ বাংলাদেশি আটক

মানবপাচার চক্র ‘গ্যাং করিম’এর আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৮ বাংলাদেশিসহ ১৯ জনকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।

 

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) এনফোর্সমেন্ট শাখার একদল কর্মকর্তা গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৮টার সেলাঙ্গর রাজ্যের চেরাস এলাকায় একটি দোকানঘরের ওপরের তলায় পরিচালিত একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন।

 

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশি ও একজন পাকিস্তানি নাগরিককে মানবপাচারের শিকার হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশকারী অভিবাসী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়া আরও তিন বাংলাদেশি পুরুষকে চক্রটির সদস্য হিসেবে আটক করা হয়েছে। তারা পাচারকারীদের সহযোগী এবং ট্রানজিট হাউসের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক অভিবাসীরা একই দিন মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলের একটি অবৈধ সীমান্তপথ দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন। পরে তাদের সড়কপথে ক্লাং ভ্যালি অঞ্চলে নিয়ে আসা হয়।

 

ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সক্রিয় থাকা এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মানবপাচার পরিচালনা করে আসছিল। পাচার হওয়া অভিবাসীদের প্রথমে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হতো। সেখান থেকে দক্ষিণ থাইল্যান্ড হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যে প্রবেশ করানো হতো।

 

চক্রটি প্রতি অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার রিঙ্গিত করে আদায় করতো। এ পর্যন্ত তাদের অবৈধ আয় প্রায় ৩২ লাখ রিঙ্গিত (৩.২ মিলিয়ন রিঙ্গিত) বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

আটক তিন বাংলাদেশির একজনকে মালয়েশিয়ায় চক্রটির মূল সমন্বয়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযানে চক্রটির ব্যবহৃত একটি সেডান গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।

 

২০ থেকে ৫২ বছর বয়সী আটক ব্যক্তিদের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭ (ATIPSOM) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭ (অপ্টিজম) লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

About Author Information

News Update

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় মানবপাচার চক্রের আস্তানায় অভিযান, ১৮ বাংলাদেশি আটক

আপডেট টাইম : 11:53:55 am, Saturday, 11 July 2026

মানবপাচার চক্র ‘গ্যাং করিম’এর আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৮ বাংলাদেশিসহ ১৯ জনকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পাকিস্তানি নাগরিক রয়েছেন।

 

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) এনফোর্সমেন্ট শাখার একদল কর্মকর্তা গত বুধবার (৮ জুলাই) রাত ৮টার সেলাঙ্গর রাজ্যের চেরাস এলাকায় একটি দোকানঘরের ওপরের তলায় পরিচালিত একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেন।

 

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশি ও একজন পাকিস্তানি নাগরিককে মানবপাচারের শিকার হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশকারী অভিবাসী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এছাড়া আরও তিন বাংলাদেশি পুরুষকে চক্রটির সদস্য হিসেবে আটক করা হয়েছে। তারা পাচারকারীদের সহযোগী এবং ট্রানজিট হাউসের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক অভিবাসীরা একই দিন মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলের একটি অবৈধ সীমান্তপথ দিয়ে দেশে প্রবেশ করেন। পরে তাদের সড়কপথে ক্লাং ভ্যালি অঞ্চলে নিয়ে আসা হয়।

 

ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সক্রিয় থাকা এই চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে মানবপাচার পরিচালনা করে আসছিল। পাচার হওয়া অভিবাসীদের প্রথমে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হতো। সেখান থেকে দক্ষিণ থাইল্যান্ড হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যে প্রবেশ করানো হতো।

 

চক্রটি প্রতি অভিবাসীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ হাজার রিঙ্গিত করে আদায় করতো। এ পর্যন্ত তাদের অবৈধ আয় প্রায় ৩২ লাখ রিঙ্গিত (৩.২ মিলিয়ন রিঙ্গিত) বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।

আটক তিন বাংলাদেশির একজনকে মালয়েশিয়ায় চক্রটির মূল সমন্বয়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযানে চক্রটির ব্যবহৃত একটি সেডান গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।

 

২০ থেকে ৫২ বছর বয়সী আটক ব্যক্তিদের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭ (ATIPSOM) অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইন ২০০৭ (অপ্টিজম) লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।