মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে নিজ বাসায় ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে আবদুল জলিল (৫৪) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন।
নিহত আবদুল জলিলের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আব্দুল গাফুর।
নিহতের স্বজনরা জানান, পরিবারের সুখের আশায় প্রায় দেড় বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমান আবদুল জলিল। প্রথম তিন মাস বৈধভাবে বসবাস করলেও পরবর্তী সময়ে তিনি অবৈধ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাঝেমধ্যে কাজ করলেও বেশিরভাগ সময় কর্মহীন থাকতে হতো তাঁকে। এতে তিনি নানা ধরনের মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানান স্বজনরা।
নিহতের নিকটাত্মীয় মো. জাকির বলেন, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে খাওয়াদাওয়া শেষে রাত ৯টার দিকে ঘুমাতে যান আবদুল জলিল। রাত ১২টার দিকে তাঁর রুমমেট ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় দ্রুত তাঁকে ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনদের ধারণা, দেশে থাকা বড় অঙ্কের ঋণ এবং নানা মানসিক চাপের কারণে আবদুল জলিল স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন।
এ বিষয়ে মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, আবদুল জলিলের মৃত্যুর বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে হাইকমিশন।
হাইকমিশন আরও জানায়, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মালদ্বীপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এদিকে আবদুল জলিলের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তাঁর পরিবার। একই সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও কামনা করেছে তারা।

মালদ্বীপ প্রতিনিধি 


















