সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে সফলভাবে ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। রোববার (৮ নভেম্বর) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দাম্মাম, আল-আহসা এবং আবকাইক এলাকায় এই হামলার চেষ্টা চালানো হয়। হামলার আশঙ্কায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে হামলার কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে চরম আকার ধারণ করেছে। মূলত গত শনিবার ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি গ্রামে সৌদি জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহতের ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই হুথিরা এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত জুলাই মাস থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটি দেশটির জ্বালানি অর্থনীতির মূল স্নায়ুকেন্দ্র এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান স্থাপনাগুলো এই অঞ্চলেই অবস্থিত। ফলে এই স্পর্শকাতর অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুথিদের আক্রমণ শুধু সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন তুলনামূলক শান্ত থাকার পর নতুন করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইয়েমেনের বিদ্যমান মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করার পাশাপাশি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রবাসীর কথা ডেস্ক 

















