Dhaka , Friday, 25 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে ১১ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হওয়া একটি মৎস্য নজরদারি বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি এলাকায় বিমানটির বিভিন্ন অংশ শনাক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা যায়নি।

 

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের মালিকানাধীন ‘এটিআর ৪২-৫০০’ মডেলের টার্বোপ্রপ বিমানটির। বিমানটিতে আটজন ক্রু সদস্য এবং তিনজন যাত্রী ছিলেন। যাত্রী তিনজনই ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক বিষয়ক ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, যারা মৎস্য সম্পদ পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।

 

দক্ষিণ সুলাওয়েসি উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানান, বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত হওয়ার পর আরোহীদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ উদ্ধারকর্মী অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে নিখোঁজদের খুঁজে বের করা। আমরা এখনও জীবিত উদ্ধারের আশা ছাড়ছি না।’

 

উদ্ধারকারীরা সকাল পৌনে ৮টার দিকে মারোস জেলার মাউন্ট বুলুসারাউং পাহাড়ের ঢালে বিমানের জানালা ও পেছনের অংশসহ বড় আকারের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান। ঘটনাস্থলটি রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। যোগাকার্তা থেকে মাকাসারগামী পথে মাকাসার বিমানবন্দর থেকে আনুমানিক ২০ কিলোমিটার দূরে বিমানটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

 

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ঘন কুয়াশার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবল বাতাস ও কুয়াশার মধ্যে পাহাড়ের গায়ে বিমানের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

 

এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, এটিআর ৪২-৫০০ মডেলের বিমান সাধারণত ৪২ থেকে ৫০ জন যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি খুব নিচু উচ্চতায় উড়ছিল, যার ফলে সংকেত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

আপডেট টাইম : 12:00:26 am, Monday, 19 January 2026

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে ১১ জন আরোহী নিয়ে নিখোঁজ হওয়া একটি মৎস্য নজরদারি বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি এলাকায় বিমানটির বিভিন্ন অংশ শনাক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা যায়নি।

 

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের মালিকানাধীন ‘এটিআর ৪২-৫০০’ মডেলের টার্বোপ্রপ বিমানটির। বিমানটিতে আটজন ক্রু সদস্য এবং তিনজন যাত্রী ছিলেন। যাত্রী তিনজনই ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক বিষয়ক ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, যারা মৎস্য সম্পদ পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।

 

দক্ষিণ সুলাওয়েসি উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানান, বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত হওয়ার পর আরোহীদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ উদ্ধারকর্মী অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে নিখোঁজদের খুঁজে বের করা। আমরা এখনও জীবিত উদ্ধারের আশা ছাড়ছি না।’

 

উদ্ধারকারীরা সকাল পৌনে ৮টার দিকে মারোস জেলার মাউন্ট বুলুসারাউং পাহাড়ের ঢালে বিমানের জানালা ও পেছনের অংশসহ বড় আকারের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান। ঘটনাস্থলটি রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় এক হাজার ৫০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। যোগাকার্তা থেকে মাকাসারগামী পথে মাকাসার বিমানবন্দর থেকে আনুমানিক ২০ কিলোমিটার দূরে বিমানটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।

 

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও ঘন কুয়াশার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবল বাতাস ও কুয়াশার মধ্যে পাহাড়ের গায়ে বিমানের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

 

এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। উল্লেখ্য, এটিআর ৪২-৫০০ মডেলের বিমান সাধারণত ৪২ থেকে ৫০ জন যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি খুব নিচু উচ্চতায় উড়ছিল, যার ফলে সংকেত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।