Dhaka , Thursday, 24 September 2026
শিরোনাম :
বৈধ বিদেশযাত্রা হোক সহজ, বন্ধ হোক অযথা হয়রানি বাংলায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রবাসীদের সাবধান করল সৌদি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং শোকেসে অংশ নিয়েছে প্রাণ মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে হাইকমিশনারের মতবিনিময় ইরাকের নয়া প্রধানমন্ত্রী হলেন শিয়া আল- সুদানি পোস্টাল ভোটিং: প্রবাসীদের নিবন্ধনের সময় ৫ দিন—কোন দেশে কবে শুরু? বাহরাইন প্রবাসীদের জন্য সচেতনতামূলক মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১১, আহত ৩১ লিবিয়া উপকূলে নৌকাডুবি, নিহতদের সবাই বাংলাদেশি ‘প্রবাসীর ভোট প্রদান সহজ করা না হলে ভোটাধিকার মূল্যহীন’

একযোগে ৮ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে ইরানের সিরিক শহর এবং কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

 

আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে তিনটা বা এক ঘণ্টার মধ্যে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এতে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সদর দপ্তরসহ আটটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে’ নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়।

 

বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, এই প্রতিশোধমূলক অভিযানে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একঝাঁক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন স্থাপনাগুলোতে চালানো এই জোরালো হামলা পুরোপুরি সফল হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানের এই শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর আগে দিনটির শুরুতে শত্রুপক্ষ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় চৌকিতে আকস্মিক হামলা চালানোর পরই এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

আইআরজিসির ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বভাবই হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করা। তারা অযাচিতভাবে ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। তারা এই হামলাকে হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর একটি অনুপ্রবেশকারী জাহাজের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের জবাব হিসেবে দাবি করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

 

ইরানের সামরিক বাহিনী বিবৃতিতে আরও বলে, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের সামুদ্রিক নৌযানের তদারকির আইনি দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

 

আইআরজিসি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, এখন থেকে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনকারী যেকোনো নৌযানের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় আরও অনেক বেশি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শত্রুপক্ষ ভবিষ্যতে যেকোনো অজুহাতে নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালালে তার পরবর্তী জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর, ব্যাপক ও বিধ্বংসী।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Rahman

সমুদ্রপথে ইউরোপযাত্রা: ৯ মাসে ২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মৃত-নিখোঁজ

একযোগে ৮ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা

আপডেট টাইম : 09:56:49 am, Sunday, 28 June 2026

স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ জুন) দিবাগত রাতে ইরানের সিরিক শহর এবং কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

 

আইআরজিসি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে তিনটা বা এক ঘণ্টার মধ্যে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এতে কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সদর দপ্তরসহ আটটি ‘গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে’ নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়।

 

বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, এই প্রতিশোধমূলক অভিযানে তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও একঝাঁক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। মার্কিন স্থাপনাগুলোতে চালানো এই জোরালো হামলা পুরোপুরি সফল হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানের এই শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর আগে দিনটির শুরুতে শত্রুপক্ষ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় চৌকিতে আকস্মিক হামলা চালানোর পরই এই পাল্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

আইআরজিসির ভাষায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বভাবই হলো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি লঙ্ঘন করা। তারা অযাচিতভাবে ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। তারা এই হামলাকে হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর একটি অনুপ্রবেশকারী জাহাজের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের জবাব হিসেবে দাবি করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

 

ইরানের সামরিক বাহিনী বিবৃতিতে আরও বলে, সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব ধরনের সামুদ্রিক নৌযানের তদারকির আইনি দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

 

আইআরজিসি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, এখন থেকে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনকারী যেকোনো নৌযানের বিরুদ্ধে আগের তুলনায় আরও অনেক বেশি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শত্রুপক্ষ ভবিষ্যতে যেকোনো অজুহাতে নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালালে তার পরবর্তী জবাব হবে অত্যন্ত কঠোর, ব্যাপক ও বিধ্বংসী।